কনডম

কনডম কি

কনডম একটি নিরাপদ এবং কার্যকর জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি । সঠিক নিয়মে ব্যবহার করলে কনডম খুব কার্যকর একটি জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি। এর ব্যবহার অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ রোধ করে এবং যৌনবাহিত রোগের বিস্তার রোধ করে।

গর্ভধারণ প্রতিরোধে কনডম কিভাবে কাজ করে

কনডম একটি প্রতিবন্ধক বস্তু হিসাবে কাজ করে। বীর্যপাতের পর শুক্রকীট কনডমের ভিতরে থেকে যায়। ফলে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হতে পারেনা, যার ফলে গর্ভসঞ্চার হয় না।

কখন এবং কোন ধরনের দম্পতি কনডম ব্যবহার করবেন

  • যে কোনো প্রজননক্ষম পুরুষ জন্মনিয়ন্ত্রণ ও যৌনরোগ প্রতিরোধের জন্য কনডম ব্যবহার করতে পারেন।
  • জন্মনিয়ন্ত্রণের জন্য যে সকল দম্পতি স্থায়ী বা একনাগাড়ে কোনো পদ্ধতি ব্যবহার করতে চান না তারা কনডম ব্যবহার করতে পারেন।
  • সন্তান প্রসবের পর প্রথম ৬ মাস শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ালে, সে সময় কার্যকর গর্ভধারণ নিরোধের জন্য কনডম ব্যবহার করতে পারেন।
  • যাদের তাড়াতাড়ি বীর্যপাত হয়, চিকিৎসকগণ তাদেরকে অনেক সময় কনডম বাবহারের পরামর্শ দেন।
  • শুধুমাত্র কনডমে যাদের এলার্জি আছে তারা ছাড়া সকলেই কনডম ব্যবহার করতে পারেন। এলার্জির লক্ষণ হচ্ছে, পুরুষাঙ্গ লাল হয়, ফুলে যায় এবং চুলকায়।

কনডমের কার্যকারিতা

কনডম সঠিকভাবে বাবহারের মাধ্যমে এইচআইভি/এইডস, গণোরিয়া, সিফিলিস, ক্লামাইডিয়া,টাইকোমোনিয়াসিস, প্রভৃতি যৌন রোগ হতে নিশ্চিত রক্ষা পাওয়া যায়। এ ছাড়াও কনডম এর ব্যবহার হারপিস, জেনিটাল ওয়ার্টস এবং অন্যান্য যৌন রোগ প্রতিরোধ করে।

কনডম বাবহারের সুবিধা

  • নিরাপদ, হরমোনজনিত কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার আশংকা নাই।
  • সঠিক নিয়মে ব্যবহার করলে জন্মনিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি এইচআইভি/এইডস, ও অন্যান্য যৌন রোগ হতে রক্ষা করে।
  • যৌনবাহিত রোগ প্রতিরোধের মাধ্যমে মহিলাদের তলপেটে প্রদাহ/ব্যথা এবং মহিলা /পুরুষের বন্ধাত্ব হতে রক্ষা করে।
  • সকল পুরুষের জন্য উপযোগী।
  • যৌন মিলনের জন্য পূর্ব থেকে সংরক্ষণ করা যায়।
  • শুধুমাত্র যৌনমিলনের সময় ব্যবহার করতে হয়।
  • সহজপ্রাপ্য, দাম কম এবং সেবাদানকারীর সাহায্য ছাড়াই ব্যবহার করা যায়।
  • নবদম্পতিদের জন্য একটি উপযুক্ত পদ্ধতি।

কনডম ব্যবহারের অসুবিধা

  • কোনো কোনো দম্পতির যৌনমিলনে অনুভূতি কম মনে হতে পারে।
  • কারো কারো ‘ল্যাটেক্স’ বা কনডমে ব্যবহৃত পিচ্ছিলকারী পদার্থ হতে এলার্জি হতে পারে ।
  • অনেক সময় কনডম কেনা, পরা, খোলা কারো কারো কাছে লজ্জাজনক মনে হতে পারে।
  • সঠিক নিয়মে না পরলে কনডম ফেটে যেতে পারে এবং তাতে গর্ভবতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  • ব্যবহারের পর ব্যবহৃত কনডম ফেলে দেয়ার জন্য সচেনতা ও সাবধানতা প্রয়োজন।

কনডমের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

কারো কারো ‘ল্যাটেক্স’ বা কনডমে ব্যবহৃত পিচ্ছিলকারী পদার্থ হতে এলার্জি হতে পারে ।

বিভিন্ন ধরনের কনডম এবং কনডম কোথায় পাওয়া যায়

সরকারি পর্যায়ে মাঠকর্মী এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কনডম পাওয়া যায়। এস এম সি ব্র্যান্ডের কনডম যেমন - রাজা, হিরো, পানথার, সেনসেশান, ইউ এন্ড মি, এক্সট্রিম। এগুলো ফার্মেসিতে পাওয়া যায়।