বাল্য বিবাহ

বিয়ে কি

বিয়ে হল একটি সামাজিক ও ধর্মীয় বন্ধন বা বৈধ চুক্তি যার মাধ্যমে দুজন প্রাপ্ত বয়স্ক নারী ও পুরুষের মধ্যে দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপিত হয়। বিয়ে এমন একটি প্রতিষ্ঠান যার মাধ্যমে দু'জন নারী ও পুরুষের মধ্যে ঘনিষ্ঠ ও যৌন সম্পর্ক সামাজিক স্বীকৃতি লাভ করে।

বাংলাদেশে বিয়ের আইন

১৮ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুকাল । তাই ১৮ বছর বয়সের আগে বিয়ে হলে তাকে শিশু বিবাহ বলে বা বাল্য বিবাহ বলে। উভয়ের বাঙলাদেশের বিয়ের আইনে পুরুষদের জন্য ২১ এবং নারীদের জন্য ১৮ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ, উভয়ের মধ্যে যে কোন একজনের বয়স এর নীচে হলে তা আইন বিরুদ্ধ হবে। মধ্যে যেকোন একজনের যদি ১৮ বছরের আগে বিয়ে হয় তাহলে তাকে বাল্য বিয়ে বলা হয়ে থাকে। বাঙলাদেশের আইনে বাল্য বিয়ের জন্য নিম্নোক্ত শাস্তির বিধান রয়েছে:

বাংলাদেশের আইনে বাল্য বিয়ের জন্য নিম্নোক্ত শাস্তির বিধান রয়েছে:

বাল্য বিবাহকারীর শাস্তি: একুশ বা তদুর্ধ্ব বয়সের অধিক বয়স্ক কোন পুরুষ বা আঠার বা তদুর্ধ্ব বয়সের অধিক বয়স্ক কোন নারী কোন অপরিণত বয়স্ক ব্যক্তির সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপনের চুক্তি করলে সেই ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদন্ড বা পঞ্চাশ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থ বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন।

বাল্য বিবাহ অনুষ্ঠান বা পরিচালনাকারীর শাস্তি:কোন ব্যক্তি বাল্য বিয়ে অনুষ্ঠান বা পরিচালনা করলে সেই ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদন্ড বা পঞ্চাশ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডনীয় হবেন, যদি না তিনি প্রমাণ করতে পারেন যে, বিয়েটি বাল্যবিবাহ ছিল না বলে বিশ্বাস করার মত যথেষ্ট যুক্তি ছিল।

বাল্যবিবাহ অনুষ্ঠানের সাথে সম্পর্কিত পিতামাতা বা অভিভাবকের শাস্তি– বাল্য বিয়ের সাথে জড়িত পিতামাতা বা অভিভাবকেরা যদি বিয়ের অনুমতি প্রদান করেন অথবা বিয়ে বন্ধ করার জন্য ব্যর্থ হন তাহলে সেই ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদন্ড বা পঞ্চাশ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডনীয় হবেন। তবে কোন মহিলা দোষী সাব্যস্ত হলে তাকে কারাদন্ড প্রদান করা যাবে না।

বাল্য বিয়ের ক্ষতিকারক দিক:

  • ১৮ বছর পর্যন্ত শিশুকাল। শিশুকালে বিয়ে হলে তা শিশু অধিকার লঙ্ঘন করা হয়।
  • ১৮ বছরের আগে বিয়ে হলে দেখা যায় পারিবারিক ও সামাজিক চাপে বিয়ের ১ বছরের মধ্যেই বাসির ভাগ কিশোরী মেয়ে গর্ভধারণ করে ও সান্তান জন্ম দেয়। একটি মেয়ের শারীর ২০ বছর বয়সের আগে গর্ভধারণ ও সন্তান জন্ম দানের জন্য উপযুক্ত হয় না। তাই ২০ বছর বয়সের আগে গর্ভধারণ ও সন্তান জন্মদান একটি কিশোরী মায়ের ও তার সন্তানের জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
  • কিশোরী মেয়েদের সহজাত উচ্ছাস, বৃদ্ধি এবং গতিশীলতাকে থামিয়ে দেয়।
  • লেখাপড়া শেষ না করেই বিবাহিত কিশোর-কিশোরীরা স্কুল কলেজ ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।
  • বাল্য বিয়ের কারণে দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ সমূহের সুযোগ গ্রহন করা সম্ভব হয় না এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে যোগাযোগ, বিষয় ভিত্তিক জ্ঞানের অভাব তৈরী হয়, যার ফলে নিজস্ব প্রতিবন্ধকতা সমূহ সমাধানে দক্ষতার অভাব থেকেই যায় এবং কোন বিষয়ে নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি গঠিত হয় না।
  • পরিবারের আর্থিক সহযোগিতা প্রদানের জন্য অল্প বয়সেই পেশাগত জীবনে প্রবেশ করতে হয়।
  • উচ্চ শিক্ষা এবং দক্ষতামূলক প্রশিক্ষণ না থাকার কারেণে অল্প আয়ের পেশায় নিয়োজিত হতে হয়, যা অধিকাংশ সময়ই শারীরিক পরিশ্রমের কাজ হয়ে থাকে।
  • প্রচলিত শিক্ষার সাথে সম্পৃক্ততা না থাকার কারণে পরিবার পরিকল্পনা সংক্রান্ত জ্ঞানের অভাব থাকে, যার ফলে অধিক সন্তান গ্রহণের প্রবনতা তৈরী হয়।
  • কৈশোরকালীন সময়ে গর্ভধারণের ফলে মেয়েরা অপুষ্টিতে ভোগে এবং গর্ভকালীন সময়ে বিভিন্ন জটিলতা তৈরী হয়।
  • অপ্রাপ্ত বয়সে সন্তান প্রসবের কারণে মা ও শিশু মৃত্যুর ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
  • স্বাস্থ্য পরিচর্যায় ব্যয় বেড়ে যায়, যা পরিবারের জন্য একটি বোঝা হয়ে দেখা দেয়।
  • অধিক সন্তান ধারনের ফলে সময়ের পূর্বেই নারীরা বার্ধক্যে উপনীত হয়।
  • অল্প বয়সে বিয়ের ফলে পুরুষদের মধ্যে একাধিক বিয়ের প্রবনতা তৈরী হয়।